জামায়াত জোট ত্যাগ, একাই নির্বাচন করবে ইসলামী আন্দোলন
প্রকাশিত: ১৮:১০, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের যে নির্বাচনি ঐক্য হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে জানিয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই ঘোষণা দেন।
গাজী আতাউর রহমান জানান, তাদের প্রার্থীরা ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তবে দুটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮ জন প্রার্থী এখনো কাজ করছেন। তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের একজনও প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করেন।
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, আমরা ইসলাম প্রতিষ্ঠাকে ইবাদত মনে করে রাজনীতি করি। এজন্য আমাদের নেতাকর্মীদের কোনো হতাশা নেই। আমরা জানি, আমাদের পথচলা হয়ত মসৃণ নাও হতে পারে। ক্ষমতার রাজনীতি আমরা করি না। আমরা নীতি আদর্শের রাজনীতি করি। ১১ দলের জোটে ইনসাফের প্রশ্নে আমরা বৈরিতার শিকার হয়েছি।
যে কারণ জানালেন ইসলামী আন্দোলন-
জামায়াত জোট থেকে হঠাৎ কেন তারা বেরিয়ে এলেন এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি জানান, তাদের প্রতি ইনসাফ করা হয়নি এবং রীতিমতো অপমান করা হয়েছে। তাছাড়া শরিয়া প্রশ্নে জামায়াতের ছাড়, বিএনপির সঙ্গে দলটির জাতীয় সরকারে অংশগ্রহণের ঘোষণাসহ নানা কারণে শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।
জামায়াতের আমির ইসলামী আন্দোলনের আমিরকে ‘ইনসাল্ট’ করেছেন দাবি করে গাজী আতাউর রহমান বলেন, আসন এখানে কম বেশি হতেই পারে, তবে এখানে আমাদের আত্মসম্মান বোধে লেগেছে। এটাও একটু বলা প্রয়োজন, আসন সমঝোতায় সর্বপ্রথম আলোচনা শুরু হয়েছে দুই আমিরের মধ্যে। ডিসেম্বর ৯ তারিখ আমিরে জামায়াত এবং আমাদের আমির পীর সাহেব চরমোনাই দুইজন একান্তে বসেছিলেন। প্রথম দিনেই তিনি ইনসাল্ট করেছেন। আপনারা জানেন, সেদিন প্রথম আলোতে একটা জরিপ প্রকাশ হয়েছিল, সেই জরিপ আপনারা দেখেছেন। সেই জরিপে প্রকাশ হয়েছিল যে, বিএনপিকে চায় ৬৫ শতাংশ মানুষ, জামায়াতে ইসলামীকে চায় ২৫ শতাংশ মানুষ। আর সেখানে ইসলামী আন্দোলনেরও ছিল একটা, সেটা হলো ০.১ শতাংশ মানুষ। ওইদিন বসার পরে আলোচনার শুরুতেই জামায়াত আমির আমাদের আমিরকে বললেন, এই যে প্রথম আলোতে একটা জরিপ এসেছে, দেখেন। তাইলে এটার অর্থ কী? এটার অর্থ হলো তাকে ইনসাল্ট করা যে, আপনাদের তো কোনো পয়েন্টই নেই। মানে জনমতে আপনাদের কোনো অবস্থান নেই। কোনো শতাংশও নেই। সেদিনই আমির আমাদের বলেছেন যে, তাদের কিন্তু মতলব ভালো নয়।
কেন এককভাবে পথচলা এর ব্যাখ্যা দিয়ে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা এ দেশের ইসলামপন্থী জনতার আবেগের সঙ্গে কিছুতেই প্রতারণা করতে পারি না। আমরা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলামের আলোকে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করে আসছি। আমরা এ থেকে বিচ্যুত হতে পারি না। এজন্য আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, গতকালকে ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে যেখানে আমরাও ছিলাম, সেখানে একটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সেখানে আসন বণ্টন হয়েছে। সেখানে আমাদের দীর্ঘদিনের পথচলা, ৫ আগস্ট পরবর্তী সারাদেশে আমরা ইসলামপন্থী শক্তি একসঙ্গে করার জন্য যে চেষ্টা-সাধনা করেছিলাম; আমরা দেখেছি শেষ পর্যায়ে এসে আমাদের যে লক্ষ্য ছিল, সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই শঙ্কা থেকে আমরা চিন্তা করলাম, আমাদের ইসলামের পক্ষের একটি বাক্সকে আমাদের হেফাজত করতে হবে।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানান, ২৬৮ আসনের বাইরে বাকি ৩২টি আসনেও তারা সমর্থন দেবেন। তবে কাকে সমর্থন দেবেন তা এখনই নির্ধারণ হয়নি। যাদের সঙ্গে নীতি-আদর্শের মিল হবে তাদের সমর্থন দেওয়া হবে। কোনো সিট খালি থাকবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কয়েক মাস আগে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি ইসলামি ও সমমনা দল একসঙ্গে পথচলা শুরু করে। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে মোটা দাগে বিরোধ থাকার পরও ইসলামের প্রশ্নে ‘একবাক্স’ নীতি গ্রহণ করে কাছাকাছি আসে চিরবৈরী জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন। বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে একসঙ্গে দলগুলোর নেতারা একমঞ্চে ওঠায় জনসাধারণের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিএনপির বিপরীতে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয় গড়ে ওঠার প্রত্যাশা ছিল সবার।
তবে আট দলকে অনেকটা পাশ কাটিয়ে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টিকে জোটে নেওয়া এবং তাদের আসন নিশ্চিত করায় ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় জামায়াতের। নানা নাটকীয়তার পর গতকাল জামায়াতসহ ১০টি দল একসঙ্গে নির্বাচনি ঐক্য ঘোষণা করে, যেখানে ইসলামী আন্দোলনও থাকবে বলে আশার কথা জানান জোট নেতারা। তবে একদিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিলো চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি। #
- ফরিদপুর জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- রিয়ান সভাপতি, ফাহিম সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সভাপতি সাদিকুর
- ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত আলী শিকদার করোনায় আক্রান্ত
- ফরিদপুরে খাবার বিতরণ শেষে বিএনপি নেতা জুয়েল সহ গ্রেফতার ২
- ইশরাক হোসেনের বাসায় হামলায় বিএনপির ক্ষোভ
- শপথ গ্রহণ শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ভোলা মাস্টারের শ্রদ্ধা
- আইসিইউতে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, শারীরিক অবস্থার উন্নতি
- মানুষের জন্য কাজ করাই ছাত্রলীগের মূল দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
- লাখো মানুষের অংশগ্রহণে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের দাফন সম্পন্ন
- সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ মারা গেছেন
- বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে যুবলীগের নবগঠিত কমিটির শ্রদ্ধা
- প্রার্থী মনোনয়নে বিএনপির নতুন যে নীতিমালা
- ধর্ষণ আইনের যেন অপব্যবহার না হয়: জিএম কাদের
- উপনির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে মনু ও নওগাঁ-৬ এ হেলাল আ. লীগের প্রার্থী
- ধর্ষণের প্রতিবাদে সারাদেশে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ কর্মসূচি

